ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে বক্তারা

বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতায় ব্যাহত হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ

দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বিরোধ ক্রমাগত বাড়ছে, এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ।

দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বিরোধ ক্রমাগত বাড়ছে, এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে গতকাল ‘ব্যবসায় বিরোধ নিষ্পত্তি ও চুক্তি প্রয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) ও ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান বিশেষ অতিথি হিসেবে সেমিনারে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বিরোধ ক্রমাগত বাড়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতগুলোয় বর্তমানে অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন। এসব মামলা পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ ব্যাহত করছে। এছাড়া ২০০১ সালে আরবিট্রেশন অ্যাক্ট হলেও তা এখনো ভালোভাবে কার্যকর হয়নি।’ এ অবস্থায় অভিজ্ঞ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে একটি পৃথক কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন ও আইনি প্রক্রিয়ার সংস্কার একান্ত অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তার মতে, এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনা সম্ভব হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জনবহুল এ দেশে আদালতে মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা বিষয়টিকে আরো অসহনীয় করে তুলছে। ফলে স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে।’ ২০০১ সালে আরবিট্রেশন আইন করা হলেও বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য-বিষয়ক বিরোধগুলো যদি প্রথাগত আদালতের বাইরে গিয়ে মেটানো যায়, তাহলে একদিকে যেমন আদালতের ওপর চাপ কমবে, সেই সঙ্গে বাণিজ্য পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে।’

তবে সাধারণ মানুষের কাছে আরবিট্রেশন বিষয়টি এখনো তেমন জনপ্রিয় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।’ বাণিজ্য সচিব জানান, কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। তবে বাণিজ্য-বিষয়ক আদালতগুলোয় বিশেষজ্ঞ বিচারক নিয়োগ দেয়া ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইইউ নিবিড়ভাবে কাজ করেছে, যা এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাচ্ছে ও রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন করতে হবে, যা বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকার এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তার মতে, আরবিট্রেশন কার্যক্রমে গতি এলে চলমান বিনিয়োগ স্থবিরতা হ্রাস পাবে। এছাড়া বাংলাদেশের লজিস্টিক ও শিপিং খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যবসায়িক চুক্তি প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক, এক্ষেত্রে আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি।’ বিশ্বব্যাংকের ডুইং বিজনেস রিপোর্টের কন্ট্রাক্ট এনফোর্সমেন্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৮৯তম, যা অত্যন্ত হতাশার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও